অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা: এ লজ্জা কার?

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রায় প্রতিদিনই খবরের কাগজের হেডলাইন দেখেই দিন শুরু করি। খুব বেশী ইন্টারেস্টিং মনে না হলে সাধারণত বিস্তারিত পড়া হয় না। ইদানিং কয়েকটি খবর আমার চোখে পড়লো। জানিনা কেন জানি ব্যাপারগুলো অদ্ভুত বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে।
সাভারে শিক্ষক উৎপল কুমারকে পিটিয়ে হত্যা, নড়াইলে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পড়ানো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকাকে ছাত্রের কুপ্রস্তাব।

ভাবা যায়, ছাত্রের হাতে শিক্ষকের মৃত্যু! গত ২৫ জুন ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু সাভারের আশুলিয়ায় তার স্কুলের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। অন্যদিকে গত ১৭ জুন নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রের আপত্তিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। ইদানিং পত্রিকায় পাতা খুললেই দেখা যাচ্ছে, মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা তাদের নিজ ছাত্রদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করছে। ছাত্রদের হাত থেকে বাঁচার জন্য নিরাপত্তার দাবি নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে মানববন্ধন করছে। একবার ভেবে দেখুন তো, যিনি আপনার আমার সন্তানকে শিখাচ্ছেন বুঝাচ্ছেন, অক্লান্ত পরিশ্রম করে চেষ্টা করছেন আপনার আমার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার। তিনিই আবার আপনার আমার সন্তানের কাছ থেকে প্রাণে বাঁচার জন্য নিরাপত্তা চাইছেন। ব্যাপারটা জাতি হিসাবে আমাদের লজ্জার নয় কি?

যে বা যারা শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরিয়েছে, তাদের কিংবা তাদের পূর্বের কয়েক প্রজন্মকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিক্ষিত করে তুলেছেন উৎপল কুমার বা স্বপন কুমারের মতো হিন্দু শিক্ষকেরা। উৎপল কুমার কিংবা স্বপন কুমারদের শিক্ষাদানের প্রতিদান কি পিটিয়ে হত্যা করা বা জুতার মালা?

শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা, অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকাকে ছাত্রের কুপ্রস্তাব এসব ঘটনা বারবার পুনরাবৃত্তির কারণ কি?

এই সেই কুলাঙ্গার, যে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ছবিঃ সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু শিক্ষকদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জন্য প্রথমেই দায়ী হল সোশাল মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পোস্টগুলো। সোশাল মিডিয়ায় সেই পোস্টগুলো দিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মুসলিমদের হিন্দুদের প্রতি বিষিয়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ফেসবুকের দুটি পোস্ট আলোচনার স্বার্থে এখানে হুবহু তুলে ধরছি।

প্রথম পোস্ট:

একটি মুসলিমপ্রধান দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কাদের হাতে চিন্তা করা যায়?
১. প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শ্যামল কান্তি ঘোষ।
২. পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিব বজ্র গোপাল ভৌমিক।
৩. কারিগরি শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব অশোক কুমার বিশ্বাস।
৪. সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নকারী মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচির (সেসিপ) যুগ্ম পরিচালক রতন কুমার রায়।
৫.সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নকারী মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচির (সেসিপ) বিশেষজ্ঞ ড. উত্তম কুমার দাশ।
৬. ঢাকা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক অদ্বৈত কুমার রায়। ৭. চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. পীযুষ কান্তি দন্ত।
৮. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র ঢালী।
৯. বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়্যারম্যান নারায়ন চন্দ্র পাল।
১০. ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ্র।
১১. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব অজিত কুমার ঘোষ।
১২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব পতিত পাবন দেবনাথ।
১৩. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকার।
১৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান স্বপন কুমার ঘোষ।
১৫. শিক্ষামন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্রী বনমালী ভৌমিক।
১৬. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস।
১৭. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকার। একটি মুসলিমপ্রধান দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কাদের হাতে চিন্তা করা যায়? এরা শিক্ষাব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি ইসলামকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে তারা… → ২য় শ্রেনীর বই থেকে ‘সবাই মিলে করি কাজ’ শিরোনামে মহানবী সাঃ-এর সংগক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দিয়েছে। → ৩য় শ্রেণির বই থেকে খলিফা হযরত আবু বকর শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দিয়েছে। → ৪র্থ শ্রেণির বই থেকে খলিফা হযরত ওমর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দিয়েছে। → ৫ম শ্রেণির বই থেকে বিদায় হজ্জ নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দিয়েছে। → ৫ম শ্রেণির বইয়ে এদেশের ইসলাম-বিদ্বেষী একজন কুখ্যাত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক কবিতা অন্তর্ভূক্ত করেছে। যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন বিরুধী কবিতা। → ৬ষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প। যা দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে- মায়ের মত, তাই গরু জবাই করা ঠিক নয়; অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ। →৭ম শ্রেণির বইয়ে শরৎচন্দ্র চট্রপাধ্যায়ের ‘লালু’ নামক গল্প। যাতে শেখানো হচ্ছে হিন্দুদের কালিপুজাঁ ও পাঠাবলির কাহিনি। →৮ম শ্রেণির বইয়ে হিন্দুদের ধর্ম-গ্রন্থ ’রামায়ন’ এর সংক্ষিপ্ত রুপ অন্তর্ভূক্ত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রথম পোস্টটির বিপক্ষে ব্যাখ্যা করছি।

আমি যখন সরকারী প্রাইমারী স্কুলে পড়তাম, তখন সেই স্কুলটিতে তিনজন শিক্ষক ছিলেন। তিনজন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন হিন্দু আর একজন মুসলমান শিক্ষক ছিলেন আমাদের প্রাইমারি স্কুলটিতে। মুসলমান শিক্ষক ইসলাম ধর্ম পড়াতেন। বাংলা, ইংরেজী, অংক, বিজ্ঞান ও সমাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং কাজের বিষয়গুলো পড়াতেন হিন্দু শিক্ষকগণ। আমাদের স্কুলটি কোনো হিন্দু শিক্ষার্থী ছিলনা। কারণ: আমাদের আশপাশের গ্রামগুলোতে কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ছিলনা। আমার প্রাইমারী শিক্ষাকাল ছিল ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ আমি নব্বইয়ের দশকের কথা বলছি।

আমরা যদি আরেকটু পিছিয়ে গিয়ে দেখি, অর্থাৎ আশির দশকে পিছিয়ে গিয়ে স্কুলের পুরোনো খাতাপত্র ঘেঁটে দেখি, তাহলে অধিকাংশ স্কুলে দেখতে পাবো, যে স্কুলগুলোতে একজন মুসলমান শিক্ষকও নেই!
হ্যাঁ, এটাই বাস্তব ইতিহাস। এই বিষয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানির কোনোকিছু নেই। কারণ ব্রিটিশ আমলে ইংরেজদের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছিল মুসলিমরা।

স্কুল কলেজ শিক্ষা কাফের শিক্ষা। তাই স্কুল কলেজ শিক্ষা গ্রহণ করলে তাদের ইহকাল-পরকাল দুই-ই নাশ হবে এই ভয়ে মুসলিমরা স্কুল কলেজ প্রত্যাখান করে। কিন্তু হিন্দুরা ব্রিটিশদের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করে নেয়। তাই তারা শিক্ষা-দীক্ষায় অনেক এগিয়ে যায়। শুধু শিক্ষা নয়; সংগীত, নৃত্য, বাঙালী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষায় হাল ধরে ছিল হিন্দুরা।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান নামে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় ভারতবর্ষ। ১৯৫০ সালের দাঙ্গায় বিপুল সংখ্যক হিন্দু প্রিয় বাংলা ছেড়ে ভিটে-মাটি ফেলে ভারতে যেতে বাধ্য হয়। সেই সময় অনেক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধই হয়ে যায় শিক্ষকের অভাবে। কারণ হিন্দু ব্যতিত শিক্ষিত নাই। মুসলিমরা তখন ধর্ম ছাড়া কিছুই জানতো না। এই হিন্দু শিক্ষকেরাই পূর্ব-পাকিস্তান, অতঃপর বাংলাদেশের দুই-তিন প্রজন্মের মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছে। হিন্দু শিক্ষকদের হাতে গড়া শিক্ষিত মুসলমানরা স্কুল-কলেজের শিক্ষকতায় প্রবেশ করছে, ক্রমশ বাড়ছে তাদের সংখ্যা। পঁচাত্তর বছরের ব্যবধানে অধিকাংশ স্কুলে মুসলমান শিক্ষকই বেশি। মুসলমান শিক্ষকরা এখন কেবল ধর্মশিক্ষার শিক্ষকে আটকে নেই। সব বিষয়ই তারা পড়াতে জানেন। হিন্দু শিক্ষকদের তাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং হিন্দু শিক্ষকরা শিক্ষিত মুসলমানদের রুটি-রুজিতে ভাগ বসাচ্ছে! ফলে মুসলমানদের একটা অংশ এখন হিন্দু শিক্ষকদের উৎখাত করতে উঠে-পড়ে লেগেছে। কিভাবে উৎখাত করা যায়? সেক্ষেত্রে ধর্মের ব্যবহার হতে পারে মোক্ষম হাতিয়ার! সেটাই তারা ব্যবহার করছে। বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে তাদেরকে অপমান-অপদস্ত করা হচ্ছে, জেলে ঢোকানো হচ্ছে।

দ্বিতীয় পোস্ট:

__হিন্দু ভাইয়েরা মন খারাপ করবেন
না.!
:আমি just জানতে চাই
:যদি পারেন উত্তর দিবেন.
:1st- শিব ৬০,০০০ বিবাহ করেছিল সে
মারা যাবার পর তার লিঙ্গকে পূজা করা হয় কেন❓
:
একজন শিষ্টাচার হিন্দু কোন যুক্তিকতায়
তার স্ত্রীদুধ দিয়ে শিবের গোপনঅঙ্গ
ধৌত করে কেন.❓
:
এটা কি কোন সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.❓

এমন কুরুচি পূর্ন আদেশ সৃষ্টিকর্তা দিতে

পারেন.❗

2nd- শিব তার নিজের ছেলে গনেশকে
চিনতে পারেনি কেন.❓

চিনতে না পারার জন্য ছেলের
গর্দানকেটে ফেলেছিলেন.! : তাহলে তিনি তার সৃষ্টিকে কি করে চিনবেন.? : ভুলে যাওয়া কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য.❓
3rd- দেবদাসীর ও যোগিনীর মত
পতিতা চরিত্রের সাথে ভগবান ও ব্রাহ্মনগন কি অশ্লীলকর্মে লিপ্ত হন.❓
:
যদি তারা প্রকৃতার্থে ভগবান হয়ে
থাকেন❓
_
4th- অশ্লীল ভঙ্গিমায় উলঙ্গনারী ,,, মুখে দাতেঁ রক্ত ও হাতে রক্তাক্ত তলোয়ার.! কি করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে.❓ উদাহরন- দূর্গা.❗
5th- কৃষ্ণা যদি সৃষ্টিকর্তা হয়। তবে
সে কেন তার মামীর সাথে
অবৈধসম্পর্ক রাখলো…❓ : তবে কি সৃষ্টিকর্তা মানুষের সাথে এমন অবৈধ কর্মে লিপ্ত হয় যা তারা নিজেরাই আইনের বর্হিভূত.❓
6th- কিভাবে রাম সৃষ্টিকর্তা হতে
পারে.❓
কারন,,,
সে প্রয়োজনে খাবার খেয়েছে, ঘুম
গেছে,
অনেক বিয়ে করেছে, দৈহিক তারনায়,
রাম
নিজের স্ত্রীকে সন্দেহ করেছে.!
এসব কি সৃষ্টিকতার কর্ম হতে পারে ❓
_
7th- যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন তবে কেন
তিনি হনুমানের সাহায্য চাইবেন.❓
:
তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি
আছে.❓
:
_
8th- রাম হনুমানের দু’ভাইকে কেন
অকারনে খুন করলেন.❓
:
যেখানে রামের সাথে তাদের কোন
শত্রুতা ছিল না ❓
:
সৃষ্টিকর্তা হয়ে অপরাধ করা কি সম্ভব.❓
_
9th- রাবন যদি শয়তান হয়ে একদিনে
লঙ্কায় পৌছাঁতে পারে.❗

তবে রাম সৃষ্টিকর্তা হয়ে কেন ১২ বছর লাগলো.❓
:
তাও আবার হনুমানের সাহায্যে❗

শয়তানের শক্তি সৃষ্টির্কতা হতে কি
করে বেশি হওয়া সম্ভব❓
_
10th- কৃষ্ণা একজন সৃষ্টিকর্তা হয়ে কি
ভাবে নারীদের স্নানরতদৃশ্য উপভোগ করেন.❓ :ও তাদের পোষাক লুকিয়ে রেখে
দেন❓

11th- গরু হিন্দুদের মা, গরুর পেট থেকে
তো গরুরবাচ্চা হয়.! কিন্তু মানুষেরবাচ্চা তো হয় না.❓
:
তাহলে গরু কি করে মানুষের মা হয়❓

12th- আপনি যাকে বানিয়েছেন সে
বড় নাকি আপনাকে
যে বানিয়েছে সে বড় ❓
উদাহরনঃ
মুর্তি
:
একটু বিবেক দিয়ে চিন্তা করুন কে বড়!
যদি
জানা থাকে
জানাবেন কিন্ত… আমি কিন্তু ধর্ম
নিয়ে বাড়াবাড়ি করিনি❗

আগেও বলেছি just জানতে চাইছি

ভাইরে এক বার শান্তির ধর্মের মধ্যে
ডুকে দেখ আর পিছনে ফিরতে ইচ্ছা হবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের দ্বিতীয় পোস্টটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। হিন্দুরা তিনশত তেত্রিশ কোটি দেব-দেবীতে বিশ্বাসী। আর শিব হলেন দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দেবতা। তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে কটুক্তি করা হচ্ছে। তারপরও হিন্দুরা নিরব। কারণ তারা সংখ্যালঘু। একজন হিন্দু যদি ঠিক এইভাবে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে জানতে চায়, মোহাম্মদ একজন নবী হয়ে ৫৫ বছর বয়সে কিভাবে একজন ছয় বছরের বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করেন? অথবা মোহাম্মদ একজন নবী হয়ে ২৫ বছর বয়সে কিভাবে (৪০ বছর বয়সি একজন) মায়ের বয়সি একজন মহিলাকে বিয়ে করেন? তাহলেই তো দেশে শুরু করবেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীর মুন্ডুর দাম নির্ধারণ করবেন! আপনার ধর্মই ধর্ম? হিন্দুদের ধর্ম ধর্ম নয়? কিছুদিন আগে নুপুর শর্মা কি এমন কথা বলেছিলেন, যার জন্য আমরা সারাবিশ্ব কাপিয়ে তুলেছিলাম?

ধর্মের ছায়ার নিচে যেমন শিক্ষক থাকে, তেমনি শিক্ষার্থীও থাকে। তবে মাঝেমধ্যে চন্দ্র সূর্যের মত গ্রহণ লাগায় কে? এর জন্য দায়ী মৌলবাদের বিকাশ।প্রতিটি ঘটনাই সাম্প্রদায়িক।

একের পর এক হিন্দু শিক্ষকরা মুসলমানদের একটি চক্রের চক্রান্তের শিকার হয়ে অপমানিত হচ্ছে। সর্বশেষ এই চক্রান্তের শিকার নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। ঘটনা কী? এই কলেজের ছাত্র রাহুল দেব রায় তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়- ‘প্রণাম নিও বস নূপুর শর্মা, জয় শ্রী রাম!’

নূপুর শর্মার বিষয়টি নিয়ে অন্য আরেকটি পোস্টে আলোচনা করব। তাই সে-বিষয়ে লিখে লেখা দীর্ঘ করলাম না। রাহুল দেব রায়ের এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে মুসলমান ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করে। অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস তাৎক্ষণিক অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে রাহুলকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। এরই মধ্যে রটে যায় স্বপন কুমার বিশ্বাস রাহুলকে বাঁচাতে পুলিশকে খবর দিয়েছেন! তার বিরুদ্ধেও ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়, পুলিশের সামনেই রাহুলের সঙ্গে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকেও জুতার মালা পরিয়ে অপদস্ত করা হয়!

কিন্তু এসবই যে অধ্যক্ষ স্বপন কুমারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত তা বেরিয়ে আসতে সময় লাগে না। অধ্যক্ষকে সরিয়ে দিয়ে অন্য কেউ অধ্যক্ষ হতে চাইছে। মোটা টাকার বিনিময়ে ৫ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দিতে তৎপর একটি চক্র। তারাই রাহুলের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রদের ক্ষেপিয়ে তুলছে। অধ্যক্ষ হওয়া নিয়ে নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকদের মধ্যে দু’টি গ্রুপ সক্রিয়। এর মধ্যে জুনিয়র প্রভাষক আকতার হোসেনের গ্রুপ অন্যতম। অধ্যক্ষ হওয়া নিয়ে জুনিয়র প্রভাষক আকতার হোসেন নানা কূটচাল করে আসছিল অনেক আগে থেকে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে অপসারণের নানা চেষ্টা করে আসছিল সে। ছাত্র রাহুল দেব রায়ের ফেসবুক পোস্ট যেন প্রভাষক আকতার হোসেনকে সেই সুযোগ এনে দেয়। তিনি কিছু শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়েছে। স্বপন কুমারের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনেছে। যাতে তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। সেই পুরোনো কৌশল!

নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। ছবিঃ সংগৃহীত

সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই ৭৫ বছর ধরে ১৮ শতাংশ থেকে এই বঙ্গের হিন্দুরা অত্যাচারিত হয়ে দেশত্যাগ করতে করতে এখন ৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই ৮ শতাংশ এখনো টিকে আছে ধুঁকতে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বঙ্গের বহু মত ও পথের কারণেই। কিন্তু সেই শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এখন পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। ফলে এই ৮ শতাংশের ওপর জুলুম চলছে। এই ৮ শতাংশ এখন এই দেশে উদ্বৃত্ত। এদের কাজ ছিল অশিক্ষিত মুসলমানদের শিক্ষিত করে তোলা। তাদের সেই কাজ এখন শেষ হয়েছে। সুতরাং স্বপন কুমার বিশ্বাসদের এখন এই দেশের মুসলমানদের আর কোনো প্রয়োজন নেই। এখন প্রয়োজন তাদের দখলে থাকা চাকরি এবং জমিজমার। তাই এবার তাদের দেশ ছাড়তে হবে! তারা দেশ ছাড়লেই পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সৌদি আরব, ইরাক প্রভৃতি দেশের মতো খাঁটি মুসলমানের দেশ হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। যা অধিকাংশ মুসলমানের স্বপ্ন!

একজন শিশুর মানবিক শিক্ষা পরিবার থেকেই শিখে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নয়। ইডিয়টিক পরিবার থেকে ইডিয়টরাই বেরিয়ে আসে। স্নেহ, ভালোবাসা, মমত্বা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্বশীলতা, ক্ষমা করার ক্ষমতা, ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, শিষ্টাচার, এসব হল মানবিক মূল্যবোধ। মানবিক মূল্যবোধ পরিবার থেকে শিখা মানব জীবনের অর্জিত সবচেয়ে বড় সম্পদ। কথায় বলে পরিবারেই হল আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। জীবন পথে চলতে গিয়ে নানা ঘটনা, আমাদের পারিপার্শ্বিক জগৎ, বেড়ে ওঠার পরিবেশ এই সব থেকেই মানুষ তার মানবিক মূল্যবোধের রসদ সংগ্রহ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ডিগ্রি দেয়া ছাড়া মানবিকতা, সৌজন্যবোধ, মূল্যবোধ এসব শেখাতে পারেনা। ঔইসব এডিয়টদের পরিবার তাদের মানবিক শিক্ষা দিতে পারে নাই। তাই তো তারা শিক্ষকদের পিটিয়ে মারে, জুতার মালা পরায়।

পত্রপত্রিকার মাধ্যমে যতদুর জানা গেছে, এই ইডিয়টরা খুবই উচ্ছৃঙ্খল। সবার সাথেই দুর্ব্যবহার করে তারা। এমনকি মা বাবার সাথেও। তাই তো তারা হৃদয় চন্দ্র মন্ডল, উৎপল কুমার সরকার ও স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পিটিয়ে মারে। জুতার মালা পরায়। পরিবার তাদের মানবিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক গোটা দেশের মানুষ। আর তাতেই রয়েছে সব সমস্যার সমাধান।

Leave a Comment