জনবিছিন্ন সরকার ঠিকে থাকার গোমর ফাঁস

“ভারতে গিয়ে আমি বলেছি, এই সরকারকে ঠিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী” গতকাল সকালে দৈনিক প্রথম আলোর এই হেডিং দেখে আমি তো রীতিমতো হতবাক হয়ে গেলাম। একটা দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসম্মুখে কিভাবে এসব কথা বলতে পারেন? পরক্ষণেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ওরা তো শুধুমাত্র মন্ত্রীই নন, কমেডিয়ান ও বটে। তাই হয়তোবা কমেডি করতে গিয়ে কথাগুলো মুখ ফস্কে হলেও জনসমক্ষে বলে ফেলেছেন।

১৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, সেইসব গোপন কথাগুলো কানে কানে বলতে হয়। কারণ কথাগুলো দেশের আপামর জনগণ শুনলে মন্দ বলবেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় মনে হয় কমেডি করতে গিয়ে টাইম ম্যাশিনের কল্পণায়, কিছু সময়ের জন্য শৈশবে ফিরে গিয়েছিলেন। সেজন্য কানে কানে বলার যোগ্য কথাগুলো জনসমক্ষে ফাঁস করে দিয়েছেন।

দেশের ১৬ কোটি মানুষের বিনোদনের যোগান নিশ্চিত করার জন্য আমরা মন্ত্রীপরিষদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশে ভালো কমেডিয়ানের বড়ই অভাব রয়েছে। কমেডিয়ানের অভাবে দেশের মানুষ বিনোদনের জগত থেকে দুরে থাকবে সেটাতো হয় না বা হতে দেয়া যায় না। তাই দেশের আপামর জনগণকে বিনোদন দিতে সরকারের মন্ত্রীপরিষদ কোনো কমতি রাখেনি। আর এর জন্য শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রীপরিষদকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে। ধন্যবাদ না দিলে তাদের প্রতি বিরাট বড় অন্যায় করা হবে।

এবার মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। এই সরকারকে টিকিয়ে রাখতে, এই দেশের জনগণের কাছে না এসে ভারতের কাছে যেতে হচ্ছে কেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে যে, এই সরকার জনগণ বান্ধব সরকার নয়। এই সরকার জনগণ থেকে বিছিন্ন হয়ে গেছে। যার জন্য, ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাহায্য চাইছে এবং ভারতকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। সেই গোপন কথাগুলোই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই মুখ ফস্কে বলে দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি, ‘ভারতকে বলেছি, আমরা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কখনও প্রশ্রয় দেব না। এটা যদি আমরা করতে পারি, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের মঙ্গল। শেখ হাসিনা আছেন বলে ভারতের যথেষ্ঠ মঙ্গল হচ্ছে। বর্ডারে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। ২৮ লাখ লোক আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ভারতে বেড়াতে যায়। ভারতের কয়েক লাখ লোক আমাদের দেশে কাজ করে। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সুন্দর অবস্থানের কারণে।

ভারতের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন ভদ্রমহিলা একটি কথা বলেছিলেন, আমরা একটি কথাও বলিনি।… বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, …আমরা একটি কথাও বলিনি। এ ধরনের প্রটেকশনও আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য।’

শেখ হাসিনার সরকারকে ঠিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথার অর্থ কি দাড়াচ্ছে? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথার অর্থ হলো: শেখ হাসিনার সরকারকে ঠিকিয়ে রাখতে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে যদি ৮ কোটি মানুষকে গুম এবং বাজি ৮ কোটি মানুষকে খুন করতে হয় করেন। কোনো সমস্যা নাই। তারপরও শেখ হাসিনার সরকারকে ঠিকিয়ে রাখেন।

শেখ হাসিনার সরকার ঠিকে থাকার জন্য ভারতের কয়েক লক্ষ মানুষকে বাংলাদেশে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে কর্মহীন।

কিছুদিন আগে একজন ভদ্র মহিলা একটি কথা বলেছিলেন। আমরা একটি কথাও বলিনি।… বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে। আমরা একটি কথাও বলিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের ভাষায় ব্যবহৃত ভদ্র মহিলাটা কে, জানেন আপনারা? তিনি হলেন ভারতের বিজেপি নেত্রী নুপুর শর্মা। তিনি একটি কথা বলেছিলেন, কি কথা বলেছিলেন, জানেন আপনারা? তিনি ইসলামের নবী মোহাম্মদ সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলেছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তখন নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এবিষয়ে কিছুই বলে নাই। এ ধরনের প্রটেকশন কেন শেখ হাসিনা সরকার ভারতকে দিয়ে যাচ্ছে? কারণ, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে ঠিকিয়ে রাখতে হবে। আর সেটা করতে পারলে ভারতেরও মঙ্গল, শেখ হাসিনার সরকারেরও মঙ্গল।

১৮ই আগষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফাঁস হওয়া কথাবার্তায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বলতে যে আর কিছু রইল না তা এই দেশের সচেতন মানুষগুলো খুব ভাল করেই জানে। তাই এতে মোটেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ভারতের কাছে বিলিয়ে দিয়ে দিয়েছে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য। এই সরকার জন বিছিন্ন হয়ে ভারতের বগলের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। মাঝে মাঝে দিশেহারা হয়ে মুখ ফস্কে বক্তব্য/মন্তব্য করে বসে সরকারের মন্ত্রী/এমপিরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারতে গিয়ে যা যা বলে এসেছেন সেজন্য অবশ্যই তিনি দেশদ্রোহী। স্বজ্ঞানে স্বীকার করার পরও একজন দেশদ্রোহী কিভাবে এখন পর্যন্ত মন্ত্রী থাকে? আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন যদি তার দলের পরামর্শে ভারতে গিয়ে ওইসব দেশদ্রোহী কথা বলে থাকেন, তাহলে শুধুমাত্র আব্দুল মোমেন নয়, তার দলও দেশদ্রোহী।

Leave a Comment