জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পরেছে প্রতিটি সেক্টরে

আওয়ামিলীগ সরকারের মন্ত্রী এমপিরা বলে বেড়াচ্ছেন যে, অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের বাংলাদেশে নাকি জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম? নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে আওয়ামিলীগ সরকার সাধারণত ভারত, আফগানিস্তান, ভূটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্থান ও শ্রীলংকার সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে।

এখন দেখা যাক সত্যিই কি ভারত, আফগানিস্তান, ভূটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম? ভারতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার পেট্রোল। আফগানিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯২ টাকা। ডিজেল প্রতি লিটার ১২৪ টাকা। ভুটানে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১২০ টাকা। ডিজেল ১৪৫ টাকা। মালদ্বীপে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ১০২ টাকা এবং ডিজেল ১০৪ টাকা। নেপালে লিটার প্রতি পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১৭২ টাকা এবং কেরোসিন ১২৮ টাকা। এদিকে পাকিস্তানে লিটার প্রতি পেট্রলের দাম ৯৮ টাকা। ডিজেল ৯২ টাকা। কেরোসিন তেল ৯৪ টাকা। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কায় পেট্রল লিটার প্রতি ১৪২টাকা। ডিজেল ১১৩ টাকা এবং কেরোসিন তেলের মূল্য ১২২টাকা।

বাংলাদেশে শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের পুনর্নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য লিটার প্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা, লিটার প্রতি অকটেন ১৩৫ টাকা ও লিটার প্রতি পেট্রোল ১৩০ টাকা করা হয়।

এতদিন কেরোসিন ও ডিজেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা প্রতি লিটার ও পেট্রোল ৮৬ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি করা হচ্ছিল

সরকার দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যায় রেফারেন্স হিসেবে জুলাই মাসের দাম সামনে এনেছে। জুলাই মাসে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম সরকার উল্লেখ করেছে ১১৭ ডলার। সেই দাম এখন কমে ৯৫ ডলারে নেমেছে। পরিশোধিত ডিজিলের দাম জুলাইয়ে ১৩৯ দশমিক ৪৩ ডলার দেখানো হয়েছে সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে। তা এখন ১৩২ ডলারে নেমে এসেছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করছে বিপিসি। গত ৮ বছরে ৪৮ হাজার ১২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থা। এর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ হাজার ৫৫৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা লাভ করে বিপিসি। আর চলতি অর্থবছরের ৮ মে পর্যন্ত ১ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী এই সংস্থার।

জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পরবে প্রতিটি ক্ষেত্রে; কৃষির উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে।

ছবিঃ সংগৃহীত

জ্বালানির তেলের দাম বেড়েছে তাতে আমার কি? আমার তো কোনো গাড়ি কিংবা বাইক নেই। এই ধারণা পোষণ করে যারা আড়ালে অট্টহাসি দিচ্ছেন, তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব কিভাবে আপনার ওপর পরছে!

সরকার মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে জন প্রতি ৩৫ পয়সা করে বাড়ালেও বাস্তবে সেটা ১ টাকা অতিক্রম করেছে। একই সাথে গতকালকে এবং আজকে স্টুডেন্টদেরকে বাসে উঠাচ্ছে না। কারণ, তারা হাফ ভাড়া দিবে বলে। ছেলেরা জোর করে বাসে উঠলে কিংবা চিল্লাপাল্লা করে হাফ ভাড়া দিলেও মেয়েরা এই ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হচ্ছে বেশি।

পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে প্রতিটি সবজির দাম কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দামাদামি করাটা একজন কাস্টমার হিসেবে অধিকার থাকলেও দামাদামি করতে গেলে এমন ভাবে তাকায় মনে হয় যেন কেউ ভিক্ষা চাচ্ছে!

জমানো টাকা দিয়ে মানুষ বাড়ি গাড়ি করার স্বপ্ন দেখে কিংবা বিপদে পরলে সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে। অথচ আমাদের জমানো টাকা দিয়ে নিত্য বাজার সদাইয়ে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

তারপরও সরকারের মন্ত্রী এমপিরা অনবরত বলেই যাচ্ছেন যে, “দেশ অস্ট্রেলিয়া সিঙ্গাপুর হয়ে যাচ্ছে।” কথা সত্য তবে আংশিক! খরচের সীমারেখায় আমরা ইউরোপ আমেরিকাকে অতিক্রম করেছি সত্যি কিন্তু আয়ের দিক থেকে ওদের দেশের ভিক্ষুকদের থেকেও পিছিয়ে!

আমাদের এসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমরা শুধু পরে আছি ট্রল, হাসি-ঠাট্টা এসব নিয়ে। কোনো বিষয়ে আমাদের মধ্যে সিরিয়াসনেস নেই। সব কিছুকেই মজা করে উড়িয়ে দেওয়ার স্বভাবটা আমাদের মারাত্মক ভুগাবে। চূড়ান্ত ফলাফল দেখতে আর মাত্র ৫ টা বছর হাসি-ঠাট্টা করুন। এরপর বেগম রোকেয়ার মতো বলতে হবে,
“ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরি রে ভাই, পাছায় জোটেনা ত্যানা।

Leave a Comment