দেশের মানুষের বিনোদন বার বার নিশ্চিত করছে মন্ত্রসভার সদস্যরা

গতকাল রাতে আমার এক ভাতিজা ইব্রাহিম আমাকে ডেকে নিয়ে একটা ভিডিও দেখাল। ২ মিনিটের সেই ভিডিওটি দেখে হাসতে হাসতে আমার পেট ব্যথা শুরু হয়েছিল। ভিডিওটিতে কমেডিয়ান হিসেবে ছিলেন আমাদের দেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। আমার আজকের লেখাটা তাকে নিয়েই।

প্রবাদ আছে, যার পদ যত বড়, তার জিভ ততটা সংযত হলেই মঙ্গল। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে কেউ আর এই কথাটি মানতে রাজি নন। এই কথাটি মানা আর না মানা সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, এর সূদুর প্রভাব কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না।

সরকার বলছে, আমাদের দেশটা নাকি অনেক এগিয়ে চলেছে। দেশ যদি সত্যিই এগিয়ে চলে তাহলে মন্ত্রী/এমপিরা কেন কথা বলবেন মধ্যযুগীয় মন্ত্রীদের মতো? যা কিনা সরকারকে বিব্রত করে? এই যে মন্ত্রীরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হওয়ার কারণ কী? সোমবার বিকালে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, “আমরা মন থেকে তার জন্য দোয়া করব, বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহ যেন জাহান্নামের ভালো জায়গায় স্থান করে দেয়।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিয়েছেন জন্মাষ্টমীর সভায় ভাষণ দিতে। সেখানে তিনি বলবেন, ভগবান শ্রী কৃষ্ণের কথা। সেদিকে না গেলে কথা হওয়া উচিৎ ছিল সম্প্রীতি আর সহাবস্থান নিয়ে। কিন্তু ওই যে একটু বেশি বলার অভ্যাস মানে নিজের জিভ সংযত না রাখার অভ্যাস।

মাত্র কয়েক দিন আগেই ‘বাংলাদেশের মানুষ বেহশতে আছে’ বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মানুষ এটা নিয়ে মশকরা করেছে, হাসাহাসি করেছে। দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্বগতির বাজারে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া মানুষ তার এ কথায় বিরক্ত হয়েছে।

হঠাৎ করে সবাই লাল পানি খেয়ে সত্য কথা বলা শুরু করল কেন? ওদিকে আবার ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীও বিরাট বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বরাবরই আমি দেখেছি, পুলিশের আওয়ামী লীগের প্রতি একটা দুর্বলতা আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক থাকলেও, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেল্টার দেওয়া কিংবা সহযোগিতা করার মানসিকতা ছিল এবং আছে বলে আমি দেখেছি।

মন্ত্রী/এমপিরা বেশি কথা বলার অভ্যাসের কারণেই ছিটকে পড়ছেন আপন বলয় থেকে।

মুখের ভাষা যে কি সংঘাতিক একটা বিষয় আর মুখের কথা যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ বা আত্মঘাতী হতে পারে, তা বুঝিয়ে বলার দরকার পরেনা। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আজকাল প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে পরিণত হচ্ছেন সেই ভাষার জন্যই। আর দেশের মানুষ তো তাদের চিনে কমেডিয়ান হিসেবে, অবশ্যই মন্ত্রী হিসেবে নয়।

আমি আবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রীপরিষদকে ধন্যবাদ জানাই, যে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের ১৬ কোটি মানুষের বিনোদন নিশ্চিত করছেন।

পরিশেষে ভাবনার বিষয় এই যে, এ দেশ আর কখনো পাকিস্তান হবে না এই কথা ১০০% সত্যি। কোন ভাবেই হবেনা। দেশে ১% মানুষ নেই, যারা আবার পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে চায়। তবে ভারতের দ্বারা আমরা ১০০% ঝুকির মধ্যে আছি। এদেশে এমন মানসিকতার লোকের অভাব নেই, যারা ভারতের সাথে যোগ দিতে চায়। বিশেষ করে প্রগতিশীল নামধারী কিছুলোক অন্তরে সেই আকাংখাটাই লালন করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সুদূর ভবিষ্যতে আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমিটা ভারতের অঙ্গরাজ্য রুপ নিবে না তো?

Leave a Comment