বৈরিতা নয়; সবাই মিলে খেলা উপভোগ করি

চার বছর পরপর প্রায় মাসব্যাপী বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তাপে পুড়ে বিশ্ববাসী। কোভিড মহামারীতে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাব, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি অর্থনৈতিক সংকটকে পাশ কাটিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের জ্বরে থরথর করে কাঁপছে সারা বিশ্ব। সুদূর আরব দেশ পাড়ি দিয়ে কাতার বিশ্বকাপের উম্মাদনা হাজির হয়েছে আমাদের বাংলাদেশের প্রত্যেকটা অলিতে-গলিতে, পাড়ায়-মহল্লায়। আমাদের গ্রাম্য বাজার নওয়াগাঁয়ের বাবুল ভাইয়ের চায়ের ষ্টল থেকে শুরু করে মাসুক মিয়া মার্কেটের বড় পর্দা- সবখানেই আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল চলেছে। আর এসব রাতজাগা পাগলামিতে দলে দলে হাজির হচ্ছেন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থকরা।

আনন্দ আর বিষাদের এই বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে আবেগপ্রবণ বাঙালি কতটুকু সরব তাই নিয়ে আমার আজকের এই আর্টিকেলটি লেখা।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে পাগলামীতে আবেগপ্রবণ বাঙ্গালীদের আবেগ সময়ে সময়ে অতি উত্তাপে পরিণত হচ্ছে। আর্জেন্টিনার পতাকা উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে খাগড়াছড়ির দীপেন, সফিপুরের তানভীর হাসান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘুষি দিয়ে ব্রাজিল সমর্থক নওয়াব মিয়ার নাক ফাটিয়েছে আর্জেন্টিনার সমর্থক জীবন মিয়া। বাগেরহাটে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ছুরিকাঘাতে ব্রাজিলের সমর্থক টুটুল হাওলাদার নিহত। চাঁদপুরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ব্রাজিলের সমর্থক মেহেদী হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে আর্জেন্টিনার সমর্থক।

হাজার হাজার মাইল দুরের আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে বাঙালির এই জীবন বাজি রাখা আবেগ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আফসোস! বিশ্বকাপ ফুটবল বাঙালিদের কাছে পাগল করা বিনোদন হলেও আয়োজনকারীদের কাছে বিশাল ব্যবসার সম্ভাবনা, ভূরাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম।

দেশে মূল্যস্ফীতি পাগলা ঘোড়ার মত ছুটে চলছে, এক মহা দুর্ভিক্ষ চোখ রাঙাচ্ছে দারিদ্র দেশবাসীর ওপর। বাংলাদেশের মানুষের সামনে হাজির হয়েছে রিজার্ভ সংকট আর মূল্যস্ফীতির প্রভাব। টান পড়েছে আমদানি ও রপ্তানি খাতে। আর এমন সময়ে আমাদের দেশের আবেগপ্রবণ মানুষেরা হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জন্য গলা ভাঙছে, অন্যের নাক ফাটাচ্ছে।

আমাদের দেশের আকাশে বাতাসে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা পতপত করে উড়ছে। অথচ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সাথে আমাদের দেশের কোনো দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতামূলক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নেই। যে ফুটবল খেলা নিয়ে আমাদের এত বাড়াবাড়ি, ধরাধরি, সেই ফুটবলের দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সাথে আমাদের কোন তুলনাই হয় না।

কোভিড মহামারীতে বিপর্যস্ত যখন দেশের অর্থনীতি, রিজার্ভ সংকট আর দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যখন সারাদেশ। এমন দুঃসময়ে হাজার হাজার মাইল দূরের আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে খুনাখুনি চলতে পারে না, কারো নাক ফাটিয়ে নিজেকে জ্ঞানী ভাবার কোনো মানে হয় না।

খেলাধুলা হোক বিনোদনের একমাত্র উপলক্ষ। খেলাধুলা নিয়ে অহেতুক বৈরিতা পরিহার করে খেলাটা উপভোগ করাই হোক খেলা দেখার একমাত্র উদ্দেশ্য।

Leave a Comment