ভারত পারলেও আমরা পারব না

১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত এবং ভারতে অনেক দীর্ঘ সময়ধরে নেতৃত্ব দানকারী দল ভারতীয় কংগ্রেস দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতে চলছে। দলটি শুধুমাত্র নেতৃত্বেই পরিবর্তনই আনছে না, পরিবারতন্ত্র থেকেও বের হতে চলেছে দলটি। ভারতীয় কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত সবাই ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছে।

আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলেই পরিবারতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। কোনো দলেই প্রকৃত গণতন্ত্র নেই। যেমন আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। কোন দলেই সভাপতি নির্বাচনে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া এবং ততকালীন এরশাদ বর্তমানে জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা রাখেনা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস কারো নেই। কেউ যদি করতে চায় তাহলে তো তার রাজনৈতিক জীবন চিরদিনের জন্য শেষ।

আমাদের বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোই গণতন্ত্রের জন্য বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হলো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিকশিত হতে পারেনি।

যে দলগুলোর ভিতরেই গণতন্ত্র নেই, সেই দলগুলো কি কিভাবে গণতন্ত্রের কথা বলে? দেশে গণতন্ত্র রক্ষা করে? সেই দলগুলোর অধীনে কিভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়? সময় এসেছে পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্তি পাওয়ার, সময় এসেছে পরিবারতন্ত্র থেকে বের হয়ে অন্যদের সুযোগ করে দেওয়ার। হাসিনা, খালেদা এবং জি এম কাদেরের উচিৎ নিজেরা স্বেচ্ছায় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে গোপন ভোটের মাধ্যমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করার।

ভারতে গান্ধী পরিবার ভারতীয় কংগ্রেস দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে অন্যদের আসার সুয়োগ করে দিচ্ছে। আমাদের দেশে কি কোনো দল এই রকম কিছু করে দেখাতে পারবে?

Leave a Comment