মরিয়মের মা রহিমার অন্তর্ধান রহস্য

গুম শব্দটি বাংলাদেশে সবচেয়ে কমন শব্দ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে মানুষ গুম হয়ে থাকে। তবে ইদানীং আত্মগোপনে থেকে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গুম শব্দটাকে খুব বেশি কাজে লাগানো হচ্ছে। গতবছর ইসলামিক স্কলার ত্বহা হুজুরের আত্মগোপন মিডিয়ায় সাড়া ফেলেছিল। হুজুরের বউ বেচারি জামাইর চিন্তায় দিশেহারা হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। যাহোক, একসময় মিডিয়ায় ফাঁস হয় ত্বহা হুজুর গুম নয়, আত্মগোপনে ছিলেন।

কিছুদিন আগে একসাথে ছয় হুজুর গুম। শেষে জানা গেল, তারা হিজরত করতে গিয়েছিল। পুলিশ আবু জাহিল হয়ে হুজুরদের হিজরতে বাধা দিয়েছে এবং গ্রেফতার করেছে।

সম্প্রতি রহিমা খাতুন নামে এক মহিলা গুম হলেন। তার মেয়ে মরিয়ম সাংবাদিক সম্মেলেন করল। প্রশাসনকে বলল, তার মাকে ফিরিয়ে দিতে। মরিয়মের কান্না দেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার পাশে দাঁড়াল। সোশাল মিডিয়ায়সহ সারাদেশে মরিয়মের পক্ষে প্রচার চালানো হল। এর মাঝেই ময়মনসিংহে এক মহিলার লাশ পাওয়া গেল।

আমাদের দেশে কেউ একবার গুম হয়ে গেলে, তাকে জীবিত উদ্ধার করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর হলোও তাই! মরিয়ম জানাল যে, এটা তার মায়ের লাশ। সে তার মায়ের লাশ শনাক্ত করছে লাশের শরীরের কাপড় দেখে।

গুম হওয়া মাকে ফিরে ফেতে মরিয়মের আহাজারি দেখে ভাবলাম, গুম সম্পর্কে একটা জ্বালাময়ী ব্লগ পোস্ট লিখবো। সেই ধারাবাহিকতায় ব্লগ লেখাও প্রায় শেষ করছিলাম। কিন্তু গত শনিবার রাতে যখন লেখাটি ওয়েবসাইটে পোস্ট করব, তখন একটি সংবাদ দেখে সব কিছু উল্টে গেল।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকারী মা ও মেয়ে। ছবিঃ সংগৃহীত

খবরে বলা হলো, রহিমা খাতুন গুম হননি বরং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিনি ও তার মেয়ে মরিয়ম পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজিয়েছেন। পুলিশ রহিমা খাতুনকে ফরিদপুর থেকে ঠিকই গ্রেফতার করেছে এবং তার মেয়ে মরিয়মও এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

জমি জমার বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একটি পচে যাওয়া লাশকে নিজের মায়ের লাশ বলে বেশ উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করেছিল মরিয়ম। কিন্তু আধুনিক প্রুযুক্তি বাঁধা হয়ে দাড়াল তাদের ফাঁসানো প্রকল্পটিতে।

একটা পচে যাওয়া লাশকে নিজের মায়ের লাশ বলে প্রতিপক্ষকে প্রায় ফাসিয়ে দিয়েছিল মা আর মেয়ে। যদিনা পুলিশ আসল ঘটনাটি জানতে না পারতো

Leave a Comment