মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে

দেশে যাতে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার জনগণকে অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার ব্যয় কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করা সেগুলোর মধ্যে একটি।

বাংলাদেশ সরকার যখন জনগণকে অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করেছে, তখন পত্রপত্রিকায় খবর বের হয়েছে যে, বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা গাছে পানি দেয়া শেখার জন্য নেদারল্যান্ডসে গিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা কিভাবে সরকারি খরচে বিদেশে যায়, সেটা চিন্তা করলে আমি হতাশায় ডুবে যাই।

দেশে জ্বালানি সংকটের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অবিরাম লোডশেডিংয়ের জন্য ভ্যাপসা গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন পত্রপত্রিকায় দেখানো হল পল্লী বিদ্যুৎতের একটি অফিসের চিত্র। ফ্যান চলছে, লাইট জ্বলছে কিন্তু রুমে সেই ফ্যানের বাতাস শরীরে লাগানোর বা লাইটের আলোতে কোনোকিছু দেখার কেউ নেই। অন্য আরেকটি রুমে এসি চলছে কিন্তু জানালা খোলা। এসব কি দেশের আপামর জনগণের সাথে তামাশা নয় কি?

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার বলা হলেও, প্রকৃতপক্ষে যে ততটা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেই, সেই বাস্তব কথাটি আমার অতন্ত সহজ-সরল বন্ধু মোফাজ্জলও ভালোভাবেই জানে।

সম্ভবত আমাদের দেশই পৃথিবীর একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ, যেদেশে বিরোধীদল কোন দলটি হবে, তা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

দেশে এতোগুলা গণমাধ্যম রয়েছে। কিন্তু দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে একটি গণমাধ্যমও নিরপেক্ষ নেই। গণমাধ্যমগুলো কখনো পরিমণি, কখনো হিরো আলম, কখনো এটা, কখনো সেটা দিয়ে জনগণের মূল দৃষ্টিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

সার্জেন্ট রাস্তায় হাত পেতে বসে আছে, মোটরসাইকেল চালক হয় ঘুষ দাও নয়তো মামলা খাও। ধর্ষণের সেঞ্চুরি করা লম্পটও এখন বাংলাদেশের জাতীয় নেতা। চতুর্দিকে শুধু দূর্নীতি আর দূর্নীতি। দেশের আইন শাস্তি দিতে পারে শুধু হিরো আলমকে। ইয়াবা কিংবা বাবা সম্রাটের একটা চুলও ছিড়ে দেখাতে পারে নাই বাংলার আইন। এটা শুধুমাত্র আওয়ামিলীগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বিএনপির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

হিরো আলম। ছবিঃ সংগৃহীত

এটা দেখার জন্য, ওইটা শিখার জন্য, এইটা কিনার জন্য দেশের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করে এতো এতো সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ যাচ্ছে। এসব খবর পড়ে খুব খুব অবাক হই। এসব অনিয়ম কি ইদানিং নিয়মে পরিণত হয়েছে। গরীব একটি দেশের মানুষের সাথে এ কেমন তামাশা?

যেদেশের রাজনীতিবিদেরা হয় গৃহপালিত, বুদ্ধিজীবীরা হয় সুবিধাভোগী, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হয় দলীয়, সেই দেশে এরচেয়ে ভালো কিছু আশা করাটাই হবে ১০০% ভূল। আমি নিজেকে নিজেই ধিক্কার দেই। কারণ আমরা মেরুদণ্ডহীন।

1 thought on “মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে”

  1. লেখকের লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগল, তবে আমরা আসাবাদি দেশ অতি সিগরি আবার পুরনুদ্দার হবে ইনশা আল্লাহ,

    Reply

Leave a Comment