মৌলবাদীদের আত্মঘাতী হামলায় বিপন্ন বিশ্ব মানবতা

ইংরেজি Fundamentalism (ফান্ডামেন্টালিজম) শব্দের বাংলা অনুবাদ হচ্ছে মৌলবাদ। মৌলবাদ হচ্ছে সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রবিধির প্রতি অন্ধ বিশ্বাস। ধর্মীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলা বা মেনে চলার পক্ষে মত প্রদান করা এবং নিজের ধর্মের মৌলিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে অন্যান্য সকল ধর্মের প্রতি চরমভাবে বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থই হচ্ছে মৌলবাদ।
অন্যভাবেও সংক্ষেপে মৌলবাদকে সংজ্ঞায়িত করা যায়; যা আধুনিকতার ঘোর-বিরোধী তাই মৌলবাদ।
মৌলবাদীরা তাদের আপোষহীন অবস্থানের জন্য হয় ধর্মান্ধ। ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের জন্য হয় উগ্র।

মৌলবাদ শব্দটি সারা পৃথিবী জুড়েই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি একটি বিতর্কিত শব্দ এবং আতঙ্কের কারণ বটে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নিন্দিত, ঘৃণিত ও ভীতিকর শব্দ হচ্ছে মৌলবাদ বা মৌলবাদী। মৌলবাদ মানেই হচ্ছে ধর্মান্ধতা, উগ্রতা এবং আধুনিকতার ঘোর-বিরোধী। মৌলবাদ মানেই হচ্ছে ধর্মরক্ষার নামে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করা। যেকোনোভাবেই/যেকোনো উপায়ে মৌলবাদীরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার জন্য মৌলবাদী কতটুকু হিংস্র ও উগ্র হতে পারে তার কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

মৌলবাদীরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল বা টিকিয়ে রাখার জন্য কতটুকু হিংস্র ও উগ্র হতে পারে, তার উদাহরণ প্রথমেই হিন্দু মৌলবাদ দিয়ে শুরু করছি-
২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও শহরে মসজিদ লাগোয়া একটি কবরস্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় হিন্দু মৌলবাদীরা। ওই বোমা বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত ও ১২০ জন আহত হয়। ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উঠে আসে অভিনব ভারত নামে একটি কট্টর হিন্দু গোষ্ঠীর নাম।

২০০৭ সালের ১৮ মে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের মক্কা মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় হিন্দু মৌলবাদীরা। ওউ বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়।

২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ১৬টি বগি নিয়ে দিল্লি থেকে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী স্টেশন আত্তারির দিকে রওনা হয় আত্তারি এক্সপ্রেস। বিশেষ এই ট্রেনটির অপর নাম সমঝোতা এক্সপ্রেস। এই ট্রেনের অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন পাকিস্তানি। এদের প্রায় সবাই ভারতে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে দেশে ফিরছিলেন। ট্রেনটি যখন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথে এসে পৌছায়, তখন বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরিত হয়। ফলে ট্রেনের ২টি বগিতে আগুন ধরে যায়। এই ভয়াবহ বোমা হামলায় ৬৮ জন নিহত হয় এবং ১৭ জন আহত হয়। নিহতদের প্রায় সবাই পাকিস্তানি। এই বিস্ফোরণের মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন স্বামী অসীমানন্দ নামক একজন হিন্দু ধর্মীয় নেতা।

সমঝোতা এক্সপ্রেসে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনাকারী স্বামী অসীমানন্দ

২০০৭ সালের ১১ই অক্টোবর রমজান মাসের ইফতারের সময় ভারতের রাজস্থানের আজমীর শরীফ দরগাহের উঠোনে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বোমা বিস্ফোরণে ৭জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়।

১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং এর সহযোগী সংগঠন বিজেপি (বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন শাসক দল) ও ভিএইচপির হিন্দু কর্মীরা ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাতে ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে।
ওই স্থানে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো মাধ্যমে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে আগত লোকজন সহিংস হয়ে উঠার পর ধ্বংসযজ্ঞটি সংগঠিত হয়। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ফলে ভারতের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মাঝে সৃষ্ট হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে সমস্ত ভারত জুড়ে শুরু হয় মুসলমান নিধন। এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে ২০০০ মুসলমান নিহত ও ৯০০০ এর ও বেশি আহত হয়।

মুসলিম মৌলবাদীদের হিংস্রতা ও উগ্রতা:
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারের উপর বিমান দিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ২৯৯৩ জন লোক নিহত এবং ৮৯০০ জন আহত হয়। ১৯জন আল কায়দার জঙ্গি ৪টি বিমান ছিনতাই করে এই হামলা চালায়।

২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইঙ্গুস ও চেচেন নামে ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের নর্থ অসেটিয়া এলাকার বেসলান শহরের স্কুল নাম্বার ওয়ানে জঙ্গি হামলা করে। তিন দিনের জিম্মি অবস্থায় ১১০০ মানুষকে বন্দি করে জঙ্গিরা। যাদের মধ্যে ৭৭৭জনই স্কুল ছাত্র। এ হামলায় ৩৮৫ জন নিহত হয়।

২০০৫ সালের ৭ই জুলাই মধ্য লন্ডনের তিনটি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন ও একটি বাসে আত্মঘাতী সিরিজ বোমা হামলায় ৫২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হয়। বোমা হামলাকারী ৪ জঙ্গি ইসলামপন্থী সংগঠন আল-কায়দার সদস্য।

২০০৭ সালের ১৪ই আগস্ট ইরাকের ইয়াজিদী ও জাজিরা শহরে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য থাকা অবস্থায় পর পর ৪টি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালায় ইসলামপন্থী উগ্র জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দা। এ হামলায় ৭৯৬ জন নিহত ও ১৫৬২ জন আহত হয়।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায় ইসলামপন্থী তালেবান জঙ্গিরা। এতে নিহত হয় ১৩০ জন শিক্ষার্থী এবং ১২০ জন স্কুলশিক্ষার্থী আহত হয়।

২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফ্রান্সের প্যারিস ও সেন্ট-ডেনিসে ধারাবাহিক ও সমন্বিত আত্মঘাতী সন্ত্রাসী আক্রমণ চালায় ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী। ভয়াবহ ওই আত্মঘাতী হামলায় ১২৮ জন নিহত ও ৪১৫ জন আহত হয়।

২০১৬ সালের ২৮ জুন তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় ইসলামপন্থী উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী। এ হামলায় নিহত হয় ৪৭ জন ও আহত হয় ২৩৯ জন।

২০১৬ সালের ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরের বিনোদন কেন্দ্রে সমকামীদের একটি নাইট ক্লাবে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ৫০ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়। হামলাকারী মুসলিম সন্ত্রাসী ওমর মতিন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অভিজাত গুলশান এলাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করা হামলায় জঙ্গিরা ২২জন কে হত্যা করে। নিহত ২২ জনের মধ্যে ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপানি ও ৩ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় ২ জন পুলিশও প্রাণ হারায়।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র মুম্বাই শহরের ১২টি স্থানে ভয়াবহ হামলা চালায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা লস্কর-ই-তৈয়বার ১০ জঙ্গি। সেই আক্রমণে তাৎক্ষণিকভাবে ১৮০ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায় এবং ৩ শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়।

মুম্বাইয়ে আত্মঘাতী হামলায় মানুষের মৃত দেহ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে

২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোসহ কয়েকটি শহরের ৩টি গির্জা ও ৩টি হোটেলে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটায় মুসলিম সন্ত্রাসীরা। ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৮৯ জন প্রাণ হারায়। যার মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিক রয়েছে। এ বোমা হামলায় আহত হয় ৪৫৯ জনের বেশি।

খ্রিষ্টান মৌলবাদীদের হিংস্রতা ও উগ্রতা:
২০১৯ সালের ১৫ই মার্চ শুক্রবার জুম্মার নামাজ চলাকালীন সময়ে নিউজিল্যান্ডের আল নুর মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। ওই ভয়াবহ হামলায় ৫২ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়। হামলাকারী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আক্রমণের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করে।

২০০০ সালে ইন্দোনেশিয়ার পোসো শহরের আশপাশের কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে খ্রিষ্টান জঙ্গিরা ধারাবাহিক হামলা চালায়। ওই হামলায় ১৯১ জন নিহত হয় এবং আহত হয় কয়েক হাজার।

২০০১ সালের ১৬ই জুলাই অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যক্তগত গর্ভপাত প্রদানকারী ইস্ট মেলবোর্ন ফার্টিলিটি ক্লিনিকে আক্রমণ চালায় খ্রিষ্টান জঙ্গি পিটার জেমস নাইট। ওই হামলায় ২ জন নিহত হয়। জেমস পিটার ছিলেন ক্যাথলিক চরমপন্থী দলের সদস্য এবং ইসলাম বিরোধী।

১৯৮৮ সালে একটি ডানপন্থী ক্যাথলিক সন্ত্রাসবাদী দল প্যারিসের একটি সিনেমা হলে আক্রমণ চালায়। খ্রিষ্টান সন্ত্রাসীরা হলের ভিতরে একটি এসিডিক যন্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সিনেমা হলটি ধ্বংস করে দেয়।

হিংস্রতা ও উগ্রতার একটি অন্যতম কারণ হল ধর্ম। নিজের ধর্মকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার মনোনীত ধর্ম মনে করে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থেকেই শুরু হয় হিংস্রতা ও উগ্রতার। ধর্মকে ঘিরে মানুষ হিংস্র ও উগ্র হয়ে উঠা অতি প্রাচীন বিষয়। অর্থাৎ ধর্মকে ঘিরে সহিংসতা পৃথিবীর আদি ইতিহাসেও আছে।

ধর্মীয় হিংস্রতা ও উগ্রতা বর্তমানে সমস্ত পৃথিবী জুড়ে এক ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি করেছে। নিজেদের স্ব স্ব ধর্মের মৌলিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে অন্য ধর্মের মানুষদের ওপর আত্মঘাতী আক্রমণ চালাচ্ছে। এসব দেখে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষেরা উৎকন্ঠিত ও উদ্বিগ্ন। ধর্মীয় উগ্রতার ভয়ংকর ছোবলে বিশ্ব আজ ক্ষতবিক্ষত।

ধর্মীয় হিংস্রতা আর উগ্রতার প্রত্যক্ষ শিকার হচ্ছে যুবসমাজ। উদীয়মান তরুণ সমাজ সহিংস উগ্রবাদের শিকার হয়ে আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবীকে করছে হুমকির সম্মুখীন।

সাধারণত হিংস্রতা ও উগ্রতার মানে হল জোর করে নিজের/নিজেদের ধর্মের মতবাদ অপরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।
ব্যাপক অর্থে বলা যায়, ধর্মীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলা বা মেনে চলার পক্ষে মত প্রদান করে অন্য ধর্মের মানুষের মতামত ও বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং যে কোনো উপায়ে নিজের ধর্মকেই সত্য ধর্ম বলে প্রচার করে এবং অন্যান্য সকল ধর্মের প্রতি চরমভাবে বিদ্বেষ পোষণ করার বা অন্য ধর্মের মানুষদের হত্যা করে পূর্ণের কাজ মনে করার নামই ধর্মীয় হিংস্রতা/উগ্রতা।

পৃথিবীতে খ্রিস্টান মৌলবাদী রয়েছে, হিন্দু মৌলবাদী রয়েছে, ইসলামি মৌলবাদী রয়েছে। অথচ মৌলবাদ শব্দটি উচ্চারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত, হিংস্র ও উগ্র হয়ে উঠে ইসলামি মৌলবাদীরা! ইসলামি মৌলবাদীরা বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। যাদের চলাফেরা, আচার-আচরণ বিশ্বব্যাপী নিন্দিত ও ঘৃণিত। এই ইসলামি মৌলবাদীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত মানবতা ও নারীবাদীদের প্রতি।

ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার দৌড়ে বর্তমানে ইসলাম এগিয়ে রয়েছে। আর এই ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে, ইসলাম ধর্মের নামে, ইসলামি পরকালের ভয় দেখিয়ে হিংস্রতা, উগ্রতা ও সন্ত্রাস সারা পৃথিবীর সাধারণ শান্তিকামী মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে।

গত এক দশকে পৃথিবীর যতস্থানে, যতোগুলো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় সবকটিই ঘটিয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট সম্প্রদায় তথা মুসলমান সন্ত্রাসীরা। ফলে পৃথিবীর পশ্চিম কি পূবে, উত্তর কি দক্ষিণে, সর্বত্রই ইসলাম ধর্মকেই সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়া একটি ধর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানুষ মানষের জন্য। কথাটি মানবতার বেলায় একেবারেই অকার্যকর। মানুষ মানুষের জন্য হলে, শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেন হাজার হাজার মানুষকে শিকার হতে হয়েছে হত্যার এবং নৃশংসতার? যুদ্ধ যতো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তারচেয়ে অনেক বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ধর্ম। ধর্মান্ধতার করাল গ্রাস থেকে কোনো ধর্মের মানুষেই রেহাই পাচ্ছে না। প্রতিটি ধর্মই ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপরে নির্যাতন চালাচ্ছে। এসব ঘটনা অতীতেও হয়েছে, বর্তমানেও হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। শুধুমাত্র ধর্মের কারণে হাজার হাজার মাইল দুরের মানুষ আপন হয়ে যায়। আর পাশের বাসার ভিন্ন ধর্মের মানুষটা হয়ে যায় পর। যে ধর্ম মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখায় না, সেই ধর্ম দিয়ে কি লাভ হবে মানব সভ্যতার?

গত কয়েক বছরে সব ধরনের সন্ত্রাসকে ছাড়িয়ে গেছে ধর্মের নামে চালানো আত্মঘাতী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ধর্মের নামে আত্মঘাতী হামলার আওতার বাইরে কেউ নেই। ধর্মের নামে আত্মঘাতী হামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের টুইনটাওয়ারে, মাটি থেকে ত্রিশ হাজার ফুট ওপরের বিমানে, পাতাল রেলস্টেশনে বা স্টেডিয়ামে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেকোনো সময় আত্মঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম।

আমি পূর্বেই বলেছি যে, গত এক দশকে পৃথিবীর যতস্থানে যতগুলো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় সবকটিই ঘটিয়েছে মুসলিম সন্ত্রাসীরা। পাকিস্তানে আল-কায়েদা, আফগানিস্তানে তালেবান এবং মধ্যপ্রাচ্যে আইএস নৃশংসতার ভয়ংকর উদাহরণ। পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লেবানন, সৌদি আরব এসব দেশে একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে শুধুমাত্র একই ধর্মে ভিন্নমত পোষণের কারণে। একই ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র মতের ভিন্নতার কারণে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে এক মুসলিম আরেক মুসলিমকে হত্যা করছে।

শান্তিই নাকি পৃথিবীর সকল ধর্মের মূলকথা। তাহলে এই শতাব্দীর দ্বার প্রান্তে এসে এসব আমরা কি দেখছি? মানুষের কল্যাণের জন্য যে ধর্ম, সেই ধর্ম নিয়েই কত মত পার্থক্য, রক্তপাত আর অশান্তি। পৃথিবী যেন ঠিক তার উল্টো দিকে ঘুরছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এই সময়ে মানুষে মানুষে সৌহাদ্যপূর্ণ ভালবাসার বদলে ধর্মের নামে হত্যা আর ঘৃণার নির্দয় জগতে প্রবেশ করেছে মানবজাতি।
মতপার্থক্য, রক্তপাত আর অশান্তি এড়াতে পৃথিবীর সকল মানুষের একটাই ধর্ম হওয়া উচিত। আর সেটা হল মানবতা। মানবতার ধর্মই হলো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম।

15 thoughts on “মৌলবাদীদের আত্মঘাতী হামলায় বিপন্ন বিশ্ব মানবতা”

    • লেখাটি কেন মোটেও ঠিক হয় নাই কারণটা একটু ব্যাখ্যা করবেন কি? আপনি যদি কারণটা না বলেন তাহলে আমি আমার ভুলগুলো কিভাবে বুঝবো

      Reply
  1. ধর্মকে ছোট করে দেখানো হলো অপরাধ

    Reply
  2. There is only one difference between good and bad people. Good people think everyone is as good as he is. And bad people think everyone is as bad as him. If you are a thief, all the people in the world think you are a thief.

    Reply

Leave a Comment