সন্তানের বাবা কে?

সমাজে সন্তান ছাড়া নারীর জীবন অসম্পূর্ণ মনে করা হয়। মনে করা হয় নারীর জীবন সম্পূর্ণ বৃথা সন্তান ছাড়া। নারী নিজেও তার জীবনের সার্থকতা মা হওয়াকেই মনে করে। তাই যেকোনো নারীর ক্ষেত্রেই সন্তান খুব আদরের ও ভালবাসার ধন। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত অধিকাংশ নারীই বিবাহের পরেই সন্তানের জন্ম দিতে দেখা গেছে। বর্তমানে কেউ কেউ স্বাধীনতা ও আধুনিকতার দোহাই দিয়ে বিয়ের আগেই কিংবা বিয়ে না করেই মা হয়ে যাচ্ছেন। যা আমরা এতদিন ইউরোপ-আমরিকাতে দেখে আসছিলাম। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য যে, ইউরোপ-আমেরিকার সেই সংস্কৃতিটা ধীরে ধীরে আমাদের উপমহাদেশেও বিস্তার লাভ করেছে।

সন্তান জন্ম দিতে যেমন একজন নারীর প্রয়োজন হয় ঠিক তেমনি বাবারও প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ সন্তান জন্ম দিতে ইচ্ছুক নারীকে অবশ্যই পুরুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে নারী যেই পুরুষের সংস্পর্শে আসেন, সেই পুরুষকেই সন্তানের বাবা বলে সমাজ ও পরিবার জানে। তবে এটাও ঠিক যে , শুধু সামাজিক স্বীকৃতি কিংবা বিয়েই মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়না যে, সেই তার বাবা। এসবের আড়ালেও একজন নারীই শুধু জানেন যে, প্রকৃতভাবে তার সন্তানের বাবাটা কে?

সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে, সামাজিক জীব হিসাবে মানুষকে সামাজের স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বা মেনে চলতে হচ্ছে। সামাজিক জীব হিসেবে সমাজের সেই স্বীকৃতির ভয়, যদি মানুষের মাঝে না থাকতো, তাহলে মানুষ আর গরুছাগলের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকতো না। । আর এজন্যই মানুষ সমাজ স্বীকৃত পন্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এবং বাবা-মা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে । যদি এর বাইরে কিছু হয়, তাহলেই সমাজে প্রশ্ন উঠে, আগত সদ্যজাত সন্তানের বাবা কে গো?

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে সন্তানের পিতৃপরিচয় এখন পর্যন্ত অনেকটা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই উপমহাদেশে শুধুমাত্র সন্তানের পরিচয়-ই নয়, যে কোন জিনিষের নিজস্ব একটা পরিচয় থাকা জরুরী। যার কোন পরিচয় থাকে না, সমাজে তাকে বিবেচনা করা হয় বেওয়ারিশ হিসাবে।

কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নুসরাত জাহান মা হয়েছেন। নুসরাত জাহান মা হওয়ার পরে তিনি যে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন সবচেয়ে বেশি, তা হলো -“তার সন্তানের বাবা কে?

নুসরাত জাহান যখন মা হয়েছেন, তার অনেক আগেই তার স্বামী নিখিল জৈন্যের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো, নুসরাত মা হওয়ার পরে নিখিল জৈন্যও নুসরাতের সেই সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করেন নি। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে প্রশ্ন জাগে, ” নিখিল জৈন যদি নুসরাতের সন্তানের বাবা না হয়, তাহলে তার বাবা কে?

এদিকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ঢালিউড চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শবনম বুবলীও বিবাহের পূর্বেই মা হতে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তার বেবি বাম্পের ছবিও। উল্লেখ্য যে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বেবি বাম্পের দু’টি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর, মা হওয়ার পুরনো গুঞ্জনের আগুণে ঘি ঢালেন বুবলী নিজেই।

অভিনেত্রী শবনম ইয়াসমিন বুবলী। ছবিঃ সংগৃহীত

সামাজিকভাবে অভিনেত্রী বুবলী এখনো অবিবাহিত। স্বভাবতই আমাদের সমাজে অবিবাহিত কোনো নারী মা হয় না। কিন্তু “বিয়ের পূর্বেই অভিনেত্রী বুবলী মা হলেন কিভাবে? তিনি ইউরোপ কিংবা আমেরিকান স্টাইলে মা হয়েছেন সমস্যা নেই। কিন্তু তার এই সন্তানের বাবাটা কে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম, অধিকাংশ মানুষ ধারণা করছেন, অভিনেত্রী বুবলীর এই সন্তানের বাবা হয়তোবা পীরে কামেল, বাতিলের আতঙ্ক, চিত্রনায়ক শাকিব খান। কারণ বছর খানেক পূর্বেই শাকিব আর বুবলীর সম্পর্কের খবর বেরিয়ে ছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা শাকিবের ছেলে আব্রাহাম জয়ের জন্মদিনের দিনই বেবিবাম্পের ছবিখানা প্রকাশ্যে আনেন বুবলি। তাই অনেকেরই ধারণা শাকিবকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতেই হয়তো এই পোস্ট তিনি করেছেন!

মানুষ যতই অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা লাভ করছে, ততই সমাজকে অস্বীকার করতে উঠে পড়ে লেগেছে। মানুষ ব্যক্তি স্বাধীনতা আর আধুনিকতার দোহাই দিয়ে কোথায় যাচ্ছে? এগুলো কি সমাজের নৈতিকতার অধঃপতন, নাকি মানব সভ্যতার উন্নয়ন?

“তার সন্তানের বাবা কে” এই ধরনের প্রশ্ন কখনো একজন নারীর জন্য সম্মানজনক হতে পারে না।

Leave a Comment